ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শরীর ঝাঁকুনি, কেন হয় এমন? জেনে নিন দ্রুত

 


ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শরীর ঝাঁকি দেয়? চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলে 'হিপনিক জার্কস'


লাইফস্টাইল ডেস্ক:

ঘুমাতে যাওয়ার পর অনেকেই অনুভব করেন, হঠাৎ শরীর ঝাঁকি দিয়ে উঠেছে—মনে হয় যেন কোথা থেকে পড়ে যাচ্ছেন। এতে ঘুম ভেঙে যায়, কখনো কখনো আতঙ্কও তৈরি হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরনের শারীরিক প্রতিক্রিয়াকে বলা হয় ‘হিপনিক জার্কস’ (Hypnic Jerks)।



---


কেন হয় এই হিপনিক জার্কস?


ঘুম শুরুর প্রক্রিয়ায় শরীর যখন ধীরে ধীরে শিথিল হতে থাকে, তখন মস্তিষ্ক কখনো কখনো ভুলভাবে মনে করে শরীর কোথাও পড়ে যাচ্ছে। এই বিভ্রান্তির ফলে শরীর হঠাৎ ঝাঁকুনি দিয়ে সাড়া দেয়। অনেকে এই সময় এমন স্বপ্নও দেখেন—যেখানে তারা সিঁড়ি থেকে পড়ে যাচ্ছেন কিংবা শূন্যে ভাসছেন।



---


কী বলে গবেষণা?


চিকিৎসকদের মতে, হিপনিক জার্কস মূলত একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া। তবে কিছু নির্দিষ্ট কারণ এর প্রবণতা বাড়াতে পারে। যেমন—


মানসিক চাপ ও উদ্বেগ


অতিরিক্ত ক্লান্তি ও ঘুমের ঘাটতি


ঘুমানোর আগে চা-কফি বা ক্যাফেইনজাতীয় পানীয় গ্রহণ


ধূমপান


শোবার ঠিক আগে অতিরিক্ত ব্যায়াম


বেশি আলো, শব্দ বা অস্বস্তিকর পরিবেশে ঘুমানোর চেষ্টা


বিপজ্জনক নয়, তবে...


চিকিৎসকদের মতে, হিপনিক জার্কস সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে যদি এটি নিয়মিতভাবে ঘটে এবং ঘুমের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।


বিশেষ করে যদি এর সঙ্গে chest pain, নিশ্বাসের সমস্যা, দুঃস্বপ্ন বা অতিরিক্ত উদ্বেগ দেখা দেয়, তাহলে অবহেলা না করে দ্রুত স্নায়ু বিশেষজ্ঞ বা স্লিপ থেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



---


কী করবেন প্রতিরোধে?


হিপনিক জার্কস থেকে মুক্তি পেতে কিছু সাধারণ অভ্যাস কার্যকর হতে পারে:


প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া


ঘুমের আগে মোবাইল, টিভি ও স্ক্রিন এড়িয়ে চলা


চা, কফি ও সিগারেট থেকে দূরে থাকা


শোবার আগে হালকা যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন করা


মৃদু আলো ও শান্ত পরিবেশে ঘুমানো




---


উপসংহার


‘হিপনিক জার্কস’ এমন একটি অভিজ্ঞতা, যা জীবনের কোনো না কোনো সময় প্রায় সবাই অনুভব করেন। এটি কোনো রোগ নয়—তবে বারবার ঘটলে নজরে রাখা উচিত। সঠিক ঘুমের রুটিন, মানসিক প্রশান্তি ও সুস্থ অভ্যাস আপনাকে এমন অস্বস্তিকর ঝাঁকুনি থেকে রক্ষা করতে পারে।



---


আপনার ঘুম যদি বারবার এই সমস্যার কারণে ব্যাহত হয়, তবে দেরি না করে একজন চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। সুস্থ ঘুমই সুস্থ জীবনের প্রথম ধাপ।

Post a Comment

Previous Post Next Post