বর্তমানে হাজারো পুরুষ
স্ত্রীর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত—
শুধু একটিমাত্র জিনিসের কারণে,
আর তা হলো মোবাইল ফোন।
পাশের বালিশে শুয়ে থাকা মানুষটার উষ্ণতার চেয়ে যখন হাতের মুঠোয় ধরা ঠাণ্ডা যন্ত্রটা বেশি প্রিয় হয়ে ওঠে, তখন বুঝতে হবে সম্পর্কটা ধীরে ধীরে ভেঙে যাচ্ছে। অসংখ্য পুরুষ আজ সঙ্গীর আদর পাচ্ছে না, কারণ তাদের মাঝে দাঁড়িয়ে গেছে অদৃশ্য এক দেয়াল—স্মার্টফোন। দেয়ালটা স্বচ্ছ কাঁচের মতো হলেও শক্তিতে ইস্পাতের মতো কঠিন।
একবার কল্পনা করুন। একজন স্বামী সারাদিন কাজের পর বাড়ি ফিরল একটু শান্তি আর ভালোবাসার খোঁজে। সে আশা করে স্ত্রীর হাসিমুখ দেখবে, দিনের অভিজ্ঞতা ভাগ করবে। কিন্তু ঘরে ঢুকেই দেখে—স্ত্রী সোফায় বসে আছে ঠিকই, কিন্তু তার মনোযোগ পুরোটা আটকে আছে মোবাইল স্ক্রিনে। নিউজফিডের খবরে, কার কোথায় ঘুরতে যাওয়া, কোন নায়িকার নতুন পোশাক—এসব তুচ্ছ বিষয় স্বামীর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে।
স্বামীর ক্লান্ত কণ্ঠে করা প্রশ্ন—“কেমন আছো?”—এর জবাব আসে না তাকিয়েই, শুধু একটুখানি দায়সারা "হ্যাঁ, ভালো।" অথচ স্ত্রীর মন ডুবে থাকে অন্যের সাজানো সংসারের ছবিতে। অন্যের দামি উপহার আর রঙিন মুহূর্ত দেখে অজান্তেই সে নিজের সংসারের সাথে তুলনা শুরু করে। মনে হয়, "আমার জীবনে তো এসব নেই!" আর সেই তুলনা থেকেই জন্ম নেয় হতাশা। পরে ছোটখাটো বিষয়েও সে স্বামীকে বলে বসে, “তুমি আমার জন্য কী করেছো?” এভাবেই অন্যের সাজানো সুখ দেখে নিজের সংসারকে অশান্তির দিকে ঠেলে দেয়।
তবে এটাকে একপাক্ষিক বললে ভুল হবে। স্বামীও অনেক সময় একই কাজ করে। স্ত্রীর সাথে সময় কাটানোর বদলে সেও ডুবে যায় ফোনে। তার স্ক্রিনে ভেসে ওঠে স্বল্পবসনা মডেল কিংবা নানা ধরনের ভিডিও। এই সহজলভ্য উত্তেজনা ধীরে ধীরে নিজের স্ত্রীর প্রতি স্বাভাবিক আকর্ষণ নষ্ট করে দেয়। ফলে বাস্তবে স্ত্রীর কাছে যেতে তার আর আগ্রহ জন্মায় না। স্ত্রী হয়তো সাজগোজ করে অপেক্ষা করছে, অথচ স্বামী তখন ব্যস্ত অন্য নারীর ছবিতে লাইক দিতে।
শেষমেশ কী হয়? একই ঘরে থেকেও দুজন দুজনের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কথোপকথন হারিয়ে যায়, স্পর্শের উষ্ণতা মিলিয়ে যায়। ভালোবাসা তখন কেবল লাইক, কমেন্ট আর শেয়ারের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। যে সময়টা একে অপরের চোখে চোখ রেখে কাটানো যেত, সেটা কেটে যায় মোবাইলের নীল আলোয়।
তবে চাইলে বদলানো সম্ভব। একবার ফোনটা সরিয়ে রেখে সঙ্গীর চোখের দিকে তাকান। হয়তো সেখানে জমে আছে অভিমান আর অপেক্ষা। মনে রাখবেন, মোবাইল বিনোদনের সঙ্গী হতে পারে, কিন্তু জীবনসঙ্গীর বিকল্প নয়। প্রিয়জনের হাসি আর স্পর্শ—এসব কোনো অ্যাপ দিয়ে পাওয়া যাবে না।
এখনো সময় আছে। ফোনটা নামিয়ে রেখে সঙ্গীর হাত ধরুন, কিছু কথা বলুন। দেখবেন, শত নোটিফিকেশনের চেয়ে তার কণ্ঠস্বর অনেক বেশি মধুর। সম্পর্কটাকে বাঁচান, কারণ একবার ভেঙে গেলে সেটাকে আর কোনো অ্যাপ দিয়ে পুনরুদ্ধার করা যাবে না।
