অপূর্ণ অধ্যায়" 💔দ্বিতীয় পার্ট📖


 


শেষ চিঠি – পর্ব ২ ✍️💔


অধ্যায় ৫: অনাহূত দেখা 🌆✨


অনুষ্ঠানের রাতের পরদিন।

শহরজুড়ে আবার বৃষ্টি নেমেছে 🌧️।

বর্ষা নিজের ঘরের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। ভিজে যাওয়া আকাশ, দপদপ করে জ্বলতে থাকা রাস্তার লাইট, আর তার বুকের ভেতরের কষ্ট—সব মিলিয়ে যেন এক অচেনা নিঃসঙ্গতা ঘিরে ধরল।


হঠাৎ ফোনের রিং 📞।

অচেনা নম্বর।

বর্ষা প্রথমে ধরতে চায়নি, কিন্তু মনে হলো এই নম্বরের ওপাশে হয়তো কিছু আছে।


ফোন ধরতেই বুক কেঁপে উঠলো।

“হ্যালো বর্ষা, চিনতে পারছো?”


সেই কণ্ঠ…

সেই উষ্ণতা…

যা বহু বছর পরও ভোলা যায়নি।


“আরিয়ান?”

কণ্ঠটা কেঁপে উঠলো।


ওপাশ থেকে এক দীর্ঘশ্বাস শোনা গেল।

“হ্যাঁ বর্ষা, আমি।

জীবন আমাকে অনেক কিছু হারিয়েছে… কিন্তু তোমার নম্বরটা নয়।”


বর্ষা নির্বাক হয়ে গেল। চোখ ভিজে উঠলো।



---


অধ্যায় ৬: অতীতের ছায়া 🌙


সেই রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা হলো দুজনের।

বর্ষা জিজ্ঞেস করলো,

“তুমি কি এখনও আমার ওপর অভিমান করে আছো?”


আরিয়ান হেসে বলল,

“অভিমান করলে কি এতদিন পরও তোমার নাম ধরে কবিতা লিখতে পারতাম?” ✍️


বর্ষার বুক ফেটে গেল।

“আমি চাইনি তোমাকে হারাতে… কিন্তু পরিবারের বাঁধন, দায়িত্ব—সবকিছু মিলে আমি ভেঙে পড়েছিলাম।” 😢


আরিয়ান ধীরে উত্তর দিল,

“তুমি কি জানো বর্ষা, আমি প্রতিটা রাতে তোমার কথা ভেবে ঘুমোতাম?

ভাবতাম তুমি হয়তো আমার মতো কষ্ট পাচ্ছো।”


বর্ষা চুপ করে গেল।

তার চোখ দিয়ে অঝোরে জল গড়িয়ে পড়লো।



---


অধ্যায় ৭: চুরি করা মুহূর্ত 🌸


এরপর থেকে মাঝে মাঝে ফোনে কথা হতো।

কখনো রাতভর, কখনো দিনের শেষে একটুখানি।

দুজনের মধ্যেকার দূরত্ব যেন ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছিল, কিন্তু বাস্তবতার দেয়াল আগের মতোই অটল।


একদিন বিকেলে কলেজের পুরোনো ক্যান্টিনের সামনে হঠাৎ দেখা হয়ে গেল দুজনের।

বর্ষা থমকে দাঁড়াল।

আরিয়ান শুধু চেয়ে রইল তার দিকে।


সেই মুহূর্তে কতকিছু বলতে চাইল দুজনেই, কিন্তু ঠোঁট যেন বন্ধ হয়ে গেল।

বর্ষা ধীরে বলল,

“তুমি জানো, এই জায়গাটা আমাকে এখনও কাঁদায়?”


আরিয়ান মৃদু হাসল।

“এখানেই তো তোমার হাসি প্রথম দেখেছিলাম।”


দুজনেই নীরবে বসে রইল।

স্মৃতিরা কথা বলল, চোখের ভাষা কথা বলল।

তাদের ঠোঁট নীরব রইল।



---


অধ্যায় ৮: কবিতার ভাষায় ভালোবাসা 📖


কয়েকদিন পর আরিয়ান তার নতুন কবিতার বই পাঠালো বর্ষাকে।

প্রথম পাতায় লেখা—


> “তুমি ছিলে আমার প্রথম কবিতা,

আর শেষ চিঠি…

তুমি না থাকলেও, প্রতিটা শব্দে তুমি আছো।” 💌




বর্ষা বইটা বুকে চেপে ধরলো।

চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ল পাতার ওপর।

সে বুঝল, ভালোবাসা হারিয়ে গেলেও তার প্রতিটি রঙ এখনও বেঁচে আছে আরিয়ানের কলমে।



---


অধ্যায় ৯: নিষিদ্ধ সত্য 🌠


এক রাতে দীর্ঘ কথার শেষে আরিয়ান হঠাৎ জিজ্ঞেস করলো,

“বর্ষা, যদি আবার জন্ম হয়… তুমি কি তখনও আমাকে বেছে নিবে?”


বর্ষা চোখ বন্ধ করলো। বুকের ভেতর জমে থাকা কান্না হু-হু করে বেরিয়ে এলো।

“হাজারবার জন্ম হলেও আমি শুধু তোমাকেই বেছে নেব আরিয়ান।

কিন্তু এই জীবনে… আমি শুধু তোমায় হারানোর জন্য জন্মেছি।” 💔


ওপাশে আরিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

“তাহলে আমাদের ভালোবাসা হয়তো মানুষের নয়…

এটা হয়তো কেবল কবিতার জন্য, বৃষ্টির জন্য জন্মেছে।” 🌧️



---


অধ্যায় ১০: শেষ দৃশ্য 🌌


এক সন্ধ্যায় তারা আবার দেখা করলো।

রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে, ভিজতে থাকা শহরে 🌆।

বর্ষা বলল,

“তুমি যদি একদিন আমার হাত ধরো, আমি সবকিছু ভুলে যাবো।”


আরিয়ান তার দিকে তাকাল, কিন্তু হাত বাড়ালো না।

শুধু বলল,

“তোমার হাত ধরলে আমি তোমাকে হারাবো বর্ষা।

তোমাকে না ছুঁলেই তুমি সারাজীবন আমার ভেতরে বেঁচে থাকবে।”


বর্ষার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।

আরিয়ান মৃদু হাসল।

তারপর অদৃশ্য ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেল।


বর্ষা জানল, ভালোবাসা সবসময় পাশে থাকার নাম নয়…

কখনো কখনো ভালোবাসা মানে হারিয়েও বেঁচে থাকা।



---


✨ শেষ পংক্তি:

সব প্রেম কাহিনী সুখে শেষ হয় না।

কিছু প্রেম কাহিনী শেষ হয় অশ্রুতে,

কিছু শেষ হয় কবিতায়,

আর কিছু… শেষ চিঠির মতো থেকে যায় হৃদয়ের ভেতরে। 💙

Post a Comment

Previous Post Next Post